ইরানের ইসলামী বিপ্লবী রক্ষী বাহিনী (আইআরজিসি) এ সপ্তাহেই তাদের ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র নগরী উন্মোচন করবে। পাশাপাশি আরো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সাফল্যও প্রকাশ করা হবে। বাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন মোহেব্বি এ ঘোষণা দিয়েছেন।
ইরানের বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ শনিবার (৭ নভেম্বর) জানায়, আইআরজিসির মহাকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র বিভাগের সপ্তাহ উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মোহেব্বি এ ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, নিজস্ব মহাকাশ প্রযুক্তি ও জ্ঞান অর্জনের ফলে ইরানের প্রতিরক্ষা কাঠামোয় আমূলে বদলে গেছে।
মোহেব্বি বলেন, আইআরজিসির মহাকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র বিভাগের সবচেয়ে বড় সাফল্য হলো নিজস্ব প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং মহাকাশশিল্পের স্থানীয়করণ। এর ফলে ইরান একসময় সামরিক অস্ত্র আমদানিনির্ভর দেশ থাকলেও এখন উন্নত মহাকাশ ও সামরিক সরঞ্জাম রপ্তানিকারক দেশে পরিণত হয়েছে। শাহেদ-১৩৬ ড্রোন বিশ্বের বিভিন্ন দেশে, এমনকি যুক্তরাষ্ট্রেও নকল করে অন্য নামে তৈরি করা হচ্ছে। ইরান এখন আরমান ক্ষেপণাস্ত্র, ৩৫৮ ড্রোন এবং সেভোম খোরদাদ আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থাসহ বিভিন্ন সামরিক সরঞ্জাম রপ্তানি করছে।
তিনি বলেন, আইআরজিসির সব অস্ত্র নিজস্ব প্রযুক্তি ও দক্ষতায় তৈরি। বিদেশি অস্ত্র, সামরিক উপদেষ্টা কিংবা যন্ত্রাংশ আমদানির ওপর ইরান নির্ভরশীল নয়। যুদ্ধের সময় শত্রুর তীব্র হামলার মধ্যেও ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎপাদন চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা অর্জন করেছে দেশটি। এ জন্য অস্ত্র উৎপাদনের কারখানা মাটির নিচে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। আগে ভূগর্ভে ক্ষেপণাস্ত্র সংরক্ষণের নগরী তৈরি করা হয়েছিল, এখন তৈরি হয়েছে ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের নগরীও।
মোহেব্বির বলেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎপাদনব্যবস্থা এতটাই নমনীয় যে শত্রুর পক্ষে কোনো অবস্থাতেই তা বন্ধ করা সম্ভব নয়। শত্রুপক্ষ তাদের নিশানা করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের সংখ্যা গুনে ইরানের মজুত ফুরিয়ে যাওয়ার হিসাব করেছিল। কিন্তু ভূগর্ভস্থ উৎপাদনব্যবস্থার কারণে অস্ত্র তৈরি ও উন্নয়ন অব্যাহত রয়েছে।
তিনি আরো দাবি বলেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র শত্রুপক্ষের একাধিক স্তরের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ভেদ করে নির্ভুলভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। যুক্তরাষ্ট্রের থাড ও প্যাট্রিয়ট প্রতিরক্ষাব্যবস্থাও সেগুলোকে কার্যকর ভাবে ঠেকাতে পারেনি। তার ভাষ্য, সাম্প্রতিক সংঘাতে আইআরজিসির মহাকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র বিভাগ ২৬০টির বেশি শত্রু বিমান ভূপাতিত করেছে। এর মধ্যে এফ-৩৫, এফ-১৬, এফ-৫ ও এফ-১৮ যুদ্ধবিমান এবং এমকিউ-১, আরকিউ-৪, অরবিটার ও লুকাস ড্রোন রয়েছে।
মোহেব্বি বলেন, ৪৭ বছর ধরে নিষেধাজ্ঞার শিকার ইরান শক্তিধর দেশগুলোর জোটের মোকাবিলা করে নিজের সামরিক সক্ষমতা ধরে রেখেছে। শত্রুর হামলার জবাবে পাল্টা আঘাত হেনে আঞ্চলিক বিভিন্ন অবকাঠামো ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ব্যবস্থাকে লক্ষ্যবস্তু করার মাধ্যমে আরো হামলা থেকে শত্রুকে বিরত রাখতে পেরেছে।
তিনি জানান, আইআরজিসির মহাকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র বিভাগের সপ্তাহ উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন শহর, তেহরান ও মাশহাদে নানা কর্মসূচি নেয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সামরিক সরঞ্জাম প্রদর্শন, শহরজুড়ে প্রচার, শহীদ সেনা কর্মকর্তাদের স্মরণে অনুষ্ঠান এবং প্রদর্শনী। তেহরানে জাতীয় মহাকাশ পার্ক পরিদর্শনের সুযোগ এবং চারজন শহীদকে নিয়ে ‘আসেমানদার’ নামে চারটি বই প্রকাশের কর্মসূচিও রয়েছে।
মোহেব্বি বলেন, সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক আয়াতুল্লাহ সৈয়দ মোজতবা খামেনির নেতৃত্বে আইআরজিসির এই বিভাগ পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। দেশের ভূখণ্ড, পরিচয়, অস্তিত্ব এবং প্রাচীন ইরানি-ইসলামি সভ্যতা রক্ষায় তাদের সক্ষমতা ও প্রস্তুতি রয়েছে। এ সপ্তাহেই ক্ষেপণাস্ত্র নগরী এবং আল্লাহর ইচ্ছায় আরো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন জনসমক্ষে উন্মোচন করা হবে।






