উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
খুলনায় আবারো চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে হামলা হয়েছে। শনিবার (৭ নভেম্বর) দুপুরে ৮-৯ জন যুবক চায়নিজ কুড়ালসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে নগরীর খানজাহান আলী রোডে সুলতানা হামিদ আলী স্কুলের বিপরীতে অবস্থিত নিউ অ্যাপোলো ডায়াগনস্টিক সেন্টারে হামলা চালায়। তারা রিসেপশন কাউন্টার, এসি ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করে।
খুলনায় দুই সপ্তাহের মধ্যে এটি চতুর্থ স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা।
‘নুর আজিমকে চেনেন?’ মাসখানেক আগে ফোন করে নিউ অ্যাপোলো ডায়াগনস্টিক সেন্টারের দায়িত্বে থাকা এক ব্যক্তির কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল। উত্তরে না বলায় ফোনের অপর প্রান্ত থেকে বলা হয়, ‘তাহলে এসে চিনিয়ে দেবানি।’ সেই হুমকির এক মাস পর এ হামলা হলো।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মাথায় ক্যাপ ও মুখে মাস্ক পরা ৮-৯ জন যুবক হঠাৎ ডায়াগনস্টিক সেন্টারটিতে প্রবেশ করে। তাদের প্রত্যেকের হাতে ছিল চায়নিজ কুড়ালসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র। কিছু বুঝে ওঠার আগেই তারা রিসেপশন কাউন্টার, এসি ও আসবাবপত্রে এলোপাতাড়ি ভাঙচুর শুরু করে। একপর্যায়ে রিসেপশনে থাকা এক নারীর মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
আকস্মিক এ হামলায় ডায়াগনস্টিক সেন্টারে সেবা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রাণভয়ে অনেকে ছোটাছুটি শুরু করেন। কেউ কেউ পরীক্ষা-নিরীক্ষা না করিয়েই বেরিয়ে যান। খবর পেয়ে খুলনা সদর থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে।
খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: লোকমান হোসেন জানান, ডায়াগনস্টিক সেন্টারটির দায়িত্বে থাকা এক ব্যক্তিকে মাসখানেক আগে ফোন করে দুর্বৃত্তরা নুর আজিমকে চেনেন কি না, জানতে চেয়েছিল। এরপর শনিবার তারা প্রতিষ্ঠানটিতে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। হামলাকারীদের শনাক্ত করা হয়েছে। তারা নুর আজিমের অনুসারী একটি সন্ত্রাসী গ্রুপের সদস্য। জড়িতদের গ্রেফতারে পুলিশের একাধিক দল মাঠে রয়েছে। তবে প্রতিষ্ঠানটির মালিক পক্ষ বলছে, তারা কোনো অভিযোগ করবে না। তাদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। অভিযোগ করলে আবারো হামলার আশঙ্কা করেন তারা।
এ নিয়ে গত দুই সপ্তাহে খুলনায় একাধিক ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও চিকিৎসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা-ভাঙচুরের ঘটনা ঘটল। এর আগে গত ৩ নভেম্বর সন্ধ্যায় নগরীর শামসুর রহমান রোডের রংধনু ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার এবং আব্দুল্লাহ প্যাথলজিতে হামলা ও ভাঙচুর চালায় দুর্বৃত্তরা। তারও আগে ২৪ অক্টোবর সন্ধ্যায় বাবুখান রোডের সন্ধানী ডায়াগনস্টিক সেন্টারে হামলা হয়। একই প্রতিষ্ঠানের সোনাডাঙ্গা এলাকার মজিদ সরণিতে অবস্থিত সন্ধানী মেডিকেয়ার হাসপাতালেও ভাঙচুর চালানো হয়।
এসব ঘটনায় মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবির অভিযোগও রয়েছে। চাঁদাবাজির অভিযোগে নগরীর টুটপাড়া সেন্ট্রাল রোড মোড়ের ঐতিহ্যবাহী চয়নিকা ফার্মেসিও গত ২৯ অক্টোবর থেকে বন্ধ রয়েছে। কয়েকজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে তাদের কেউ কেউ চেম্বার বন্ধ করে আত্মগোপনে চলে গেছেন বলে জানা যায়।