অভিনেত্রী তানজিন তিশা ও সামিয়া অথৈয়ের সদস্যপদ অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করেছে ছোট পর্দার অভিনয়শিল্পীদের সংগঠন অভিনয়শিল্পী সংঘ। শুটিং সেটে দুই অভিনেত্রীর মধ্যে বিরোধ ও মারধরের অভিযোগের জেরে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সদস্যপদ স্থগিতের পর বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছেন তানজিন তিশা।
শুটিং সেটে সামিয়া অথৈর সঙ্গে বিরোধ, অভিনয়শিল্পী সংঘের সালিশ বৈঠক, সদস্যপদ স্থগিতের কারণ এবং গত আট মাসের নানা অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন অভিনেত্রী। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযোগ প্রকাশের বিষয়টিও। তিশার মতে, পেশাগত বিরোধ মীমাংসার বদলে তা প্রকাশ্যে এনে কাউকে হেয় করা কিংবা তাঁর ক্যারিয়ারের ক্ষতি করার চেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়।
তিশা বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা প্রচারণা আমাদের সমালোচিত করে। আমরা যারা কাজ দিয়ে টিকে থাকতে চাই, তাদের জন্য সেটা কঠিন হয়ে পড়ে। একটা জায়গায় কাজ করতে গেলে অনেকের সঙ্গে মতের অমিল হতে পারে, ঝামেলাও হতে পারে। কিন্তু তার মানে এই নয় যে আমি আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গিয়ে সব বলে দেব কিংবা সাংবাদিকদের জানাব, যাতে কারও ক্যারিয়ারের ক্ষতি হয়।’
গত এক বছর ধরে তাঁকে ঘিরে চলা বিভিন্ন বিতর্ক নিয়েও কথা বলেন তিশা। তার ভাষায়, ‘গত এক বছরে অনেক কিছু দেখলাম, শাড়ি–কাণ্ডও দেখলাম। আজ হোক বা কাল, সবকিছু সবার সামনে আসবে। আমি শুধু সেই দিনের অপেক্ষায় আছি।’
লাইভে তিশা বলেন, ‘অনেকেই বলছেন তানজিন তিশা বিচারে যান নি বলে তার সদস্যপদ বাতিল করা করা হয়েছে। আমি তাদের বোকাই বলবো। অভিনয় দিন শেষে আমাদের রিজিকের জায়গা। অভিনয়শিল্পী সংঘ আমার পদ স্থগিত করেছে। কিন্তু যাকে নিয়ে অভিযোগ উঠেছে তাকে নিয়ে তো কেউ কিছু বলছেন না।’
সামিয়া অথৈয়ের সঙ্গে শুটিং সেটের ঘটনা প্রসঙ্গে তিশা বলেন, ‘পুতুলের বিয়ে’ নাটকে একজন মহান শিল্পী আছেন। তাঁর সঙ্গে আমার একটা সমস্যা হয়েছিল। পুরো শুটিং সেটের সবাই সেই ঘটনার সাক্ষী। কী হয়েছে, কী হয়নি, সবাই দেখেছেন।’
নাটকটিতে মানসিক প্রতিবন্ধী চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিশা। তাঁর দাবি, নাটকের দৃশ্য দেখলেই দর্শকেরা বুঝতে পারবেন সেদিন কী ঘটেছিল। তিনি বলেন, ‘আমার পাগলের চরিত্র তো আমি করেছি। নাকি আরেকজন পাগলের চরিত্র করেছে, সেটাও আপনারা দেখেছেন। কোনো কাটছাঁট করা হয়নি। দৃশ্যটি দেখলে বুঝবেন, কে আসলে ইম্প্রোভাইজ করেছে। নির্যাতনের যে দাবি করা হয়েছে, সেটাও আপনারা বুঝতে পারবেন।’
ঘটনার পর ফেসবুকে তিশার বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ তোলেন সামিয়া অথৈ। এরপর দুজনকেই ডেকে সালিশ বৈঠক করে অভিনয়শিল্পী সংঘ। এ প্রসঙ্গে তিশা বলেন, ‘আমাদের সম্মানিত ব্যক্তিরা বিচারক হিসেবে ছিলেন। প্রায় পাঁচ ঘণ্টা বসে পুরো ঘটনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। কেন, কী ঘটেছে, সবকিছু শোনা হয়েছে। সেই বৈঠকের নোটিশও আমার কাছে আছে, লিখিতভাবে আছে।’
ফেসবুক লাইভের শেষ দিকে অভিনেত্রী বলেন, ‘আট মাস ধরে যত বাধাই আসুক, যা-ই ঘটুক, আমি থেমে নেই। আমি থেমে থাকব না। আমি হাল ছাড়ব না। এত আত্মবিশ্বাস নিয়ে কথাটা বলতে পারছি, কারণ আমি জানি, আমি ভুল কিছু করিনি।’
এদিকে অভিনয়শিল্পী সংঘের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ মামুন অপু জানিয়েছেন, বিরোধ মেটাতে একাধিকবার উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা সফল হয়নি। সালিশ বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দুই অভিনেত্রীকে ভিডিও বার্তা দিতে বলা হয়েছিল। কিন্তু কেউ তা দেননি। এর পরিপ্রেক্ষিতেই তাদের সদস্যপদ স্থগিত করা হয়েছে।





